Thursday, April 2, 2020

কেবল সংস্পর্শ নয়, এসির বাতাস থেকেও ছড়াতে পারে করোনা ভাইরাস : যুক্তরাষ্ট্রের গবেষনা

করোনা ভাইরাস অতি ক্ষুদ্র এই জীবানু নিয়ে তটস্হ গোটা পৃথিবীর, পৃথিবীর তাবৎ গবেষনা, বিজ্ঞান যেন এখন এই ভাইরাসটি নিয়েই, প্রতিদিনই এই ভাইরাসটিকে নিয়ে প্রকাশিত হচ্ছে নিত্য নতুন গবেষনা, নানাভাবে নানা দিক থেকে দেখার চেষ্টা করা হচ্ছে কিভাবে এই ভাইরাসটিকে প্রতিহত করা যায়।

ইতিমধ্যে সবারই জানা ছিল করোনা ভাইরাস বস্ত্ত পৃষ্ঠেও বেঁচে থাকতে পারে, আর সেই বস্তু পৃষ্ঠের সংস্পর্শে মানুষের হাতের ছোয়া লাগলেও সেইখান থেকেও সংক্রামিত হবার সম্ভবনা থাকে।


এবার জানা গেল, মানুষের সংস্পর্শেই নয়, এয়ারকন্ডিশনের (এসি) বাতাসের মাধ্যমেও ছড়াতে পারে করোনাভাইরাস।


গত শুক্রবার আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নালে এই সংক্রান্ত গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নভেল করোনাভাইরাসকে যতটা সংক্রামক ভাবা হচ্ছিল, এটি তারচেয়েও ভয়াবহ। শুধু করোনা আক্রান্তদের স্পর্শ করলে বা তাদের হাঁচি-কাশি, মুখের লালা থেকে নয়, প্রাণঘাতী এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে এসির মধ্য দিয়েও।


সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে করোনা আক্রান্ত তিন রোগীর ব্যবহৃত রুমগুলো পরীক্ষা করেন দেশটির ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজেসের বিশেষজ্ঞরা। এসময় এক রোগীর রুমের এয়ার ডাক্ট-এ করোনাভাইরাসের নমুনা পান তারা।


যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জেমস জি ডয়ার বলেন, এধরনের ব্যবস্থায় সাধারণত পাঁচ হাজার ন্যানোমিটারের চেয়ে ক্ষুদ্র কণাগুলো আটকায় না। নভেল করোনাভাইরাসের প্রকৃত আকার এখনও নিশ্চিত নয়। তবে একই গোত্রের সার্স ভাইরাসের আকার রেকর্ড করা হয়েছিল ১২০ ন্যানোমিটার। সেক্ষেত্রে, এনসিওভি-১৯’র আকারও তেমনই হবে, যা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় আটকাবে না।




তার মতে, এসির মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে প্রমোদতরী ও বিমানগুলো। যদিও ইতিহাদ এয়ারলাইন্স দাবি করেছে, তাদের বিমানগুলোর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হাসপাতালের মতোই অত্যাধুনিক। এটি যেকোনও ভাইরাস ফিল্টার করতে সক্ষম।

এদিকে, এসির মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার খবরে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো বন্দরে আটকা পড়া গ্র্যান্ড প্রিন্সেস প্রমোদতরী নিয়ে। জাহাজটির ২১ আরোহীর শরীরে করোনাভাইরাস ধরা পড়ায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন প্রায় সাড়ে তিন হাজার যাত্রী-ক্রু। এটিকে অবাণিজ্যিক কোনও বন্দরে নিয়ে কোয়ারেন্টাইনে রেখে সবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করবে মার্কিন প্রশাসন। এর আগ পর্যন্ত সব যাত্রীকে নিজ নিজ কেবিনে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে আটকা পড়েছিল ব্রিটিশ প্রমোদতরী ডায়মন্ড প্রিন্সেস। সেখানে দুই সপ্তাহের বেশি আটকা (কোয়ারেন্টাইন) ছিলেন অন্তত ৩ হাজার ৭০০ আরোহী। এ পর্যন্ত জাহাজটির সাত শতাধিক যাত্রী করোনা আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ছয়জন। এবার গ্র্যান্ড প্রিন্সেসেরও অনেকটা একই পরিণতি হতে চলছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রশ্নগুলো হলো- করোনা

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি কঠিন পরিশ্রম করছেন, কিন্তু গণমাধ্যমের সামনে এলেই তাঁর মুখে যেন একরাশ মেঘ ভর করে। একটু অপ্রিয় প্রশ্ন হলে তিনি রেগে যান, পাল্টা প্রশ্ন করেন, ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলেন। একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে ধৈর্য্য হারালে চলবে না, যেকোন কঠিন প্রশ্নের উত্তরই দিতে হবে। আর এটা শিখতে হবে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। যিনি সংবাদ সম্মেলন ডেকে অবাধে সব প্রশ্ন গ্রহণ করেনে এবং সাবলীলভাবে সকল প্রশ্নের উত্তর দেন। হাসিবিহীন এই স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বাংলাদেশের জনগণ ১০টি নিরীহ প্রশ্ন করতে চায়। প্রশ্নগুলো হলো-
১. ৮ই মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা শনাক্ত হলো এবং এরপর থেকে এখন পর্যন্ত মাত্র ১২শ এর কম মানুষের উপর করোনা শনাক্তের পরীক্ষা হয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন হলো- এত কম সংখ্যক মানুষের উপর কেন পরীক্ষা এতদিনে হলো। আরো বেশি মানুষের উপর বৃহত্তর আকারে পরীক্ষা করা যেত না?
২. করোনা শনাক্তের পর কেন মাস্ক, পিপিইসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আনার উদ্যোগ নেয়া হলো? আমরা জানি যে, চীনে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে করোনা প্রথম ধরা পড়ে এবং জানুয়ারিতে তা মহামারী আকার ধারণ করে। চীনে যেহেতু মহামারী ধারণ করেছে, তাই বাংলাদেশে এই ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। তাহলে আমরা তখন থেকেই কেন চেকলিস্ট তৈরি করলাম না এবং করোনা মোকাবেলার আগাম ব্যবস্থা গ্রহণ করলাম না?
৩. শুধু আইইডিসিআর কেন এতদিন রক্ত পরীক্ষা করলো এবং ৩ সপ্তাহ পড়ে কেন আইসিডিআরবি-সহ বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে এই দায়িত্ব দেয়া হলো?
৪. করোনা শনাক্তের ব্যবস্থা কেন আগে থেকে ঢাকার বাইরে ছিল না? করোনা শনাক্তের পরে অন্তত বিভাগীয় শহরে কেন এই পরীক্ষা চালু করা হলো না?
৫. ১৬ কোটি মানুষের অনুপাতে যে পরিমাণ আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর থাকা দরকার বা উচিত সেই পরিমাণ আইসিইউ বেড এবং ভেন্টিলেটর কি সত্যিই আমাদের আছে?
৬. ইউরোপের করোনা সংক্রমণের পর যারা বাংলাদেশে ফিরেছে তাঁদের তালিকা কি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আছে? তাঁদের রক্তের পরীক্ষা কি হবে? বা কতদিনে হবে?
৭. বাংলাদেশে বিদেশ ফেরত যারা দেশে এসে অন্যদের সংস্পর্শে এসেছে, তাঁদের তালিকা কি তৈরি করা হয়েছে? এবং তাঁদের কি পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে?
৮. বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে যে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যহত হচ্ছে, তাঁদের ব্যাপারে কি মাননীয় মন্ত্রী কোন উদ্যোগ নিয়েছেন?
৯. সাধারণ জ্বর, কাশি, অ্যাজমা, শ্বাস কস্টের রোগীরা কোথায় যাবেন?
১০. আবার বাংলাদেশে ডেঙ্গু প্রকোপ শুরু হতে যাচ্ছে। ডেঙ্গু মোকাবেলার জন্য কি কোন আগাম প্রস্তুতি নেয়া হবে? নাকি ডেঙ্গু আসার পর আমরা প্রস্তুত হওয়া শুরু করবো?